ছোটদের মজার গল্প – শেয়ালের বুদ্ধির জয়
লেখক: সুব্রত মজুমদার
সবুজে ঘেরা এক শান্ত বনের মাঝখানে ছিল একটি ছোট্ট পুকুর। সেই পুকুরে থাকত এক ধীর-স্থির কচ্ছপ। আর পুকুরের পাশের বড় বটগাছের নিচের গর্তে বাস করত এক চালাক শেয়াল। স্বভাবে একেবারে আলাদা হলেও দুজন ছিল পরম বন্ধু। প্রতিদিন বিকেলে তারা পুকুরপাড়ে বসে গল্প করত।
একদিন তারা গল্পে মশগুল, এমন সময় ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এল এক হিংস্র গেছো বাঘ।
বাঘকে দেখেই শেয়াল মুহূর্তের মধ্যে দৌড়ে নিজের গর্তে ঢুকে পড়ল। কিন্তু ধীরগতির কচ্ছপ পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল। বাঘ তাকে থাবার নিচে চেপে ধরে ভাবল, আজ তো জমিয়ে ভোজ হবে!
কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। কচ্ছপ ভয়ে মাথা, হাত আর পা সব শক্ত খোলসের ভেতরে গুটিয়ে নিল। বাঘ দাঁত দিয়ে কামড়াল, নখ দিয়ে আঁচড়াল, পাথরে আছাড় মারল—কিছুতেই শক্ত খোলস ভাঙতে পারল না।
বাঘ বিরক্ত হয়ে চারদিকে তাকিয়ে উপায় খুঁজতে লাগল।
ঠিক তখনই গর্তের ভেতর থেকে শেয়াল মুখ বের করে মুচকি হেসে বলল,
— “মামা, এত কষ্ট করছেন কেন? কচ্ছপের মাংস খুবই সুস্বাদু, কিন্তু খাওয়ার আগে তার খোলস নরম করতে হয়।”
বাঘ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “তাহলে বলো না ভাগ্নে, কী করলে খেতে পারব?”
শেয়াল গম্ভীর মুখে উত্তর দিল,
— “ওকে পুকুরের জলে ফেলে রাখুন। কিছুক্ষণ ভিজলেই খোলস নরম হয়ে যাবে। তখন সহজেই বের করে খেতে পারবেন।”
বাঘ আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে কচ্ছপটিকে তুলে সোজা পুকুরে ছুড়ে দিল।
জলে পড়তেই কচ্ছপ সাঁতরে গভীর পানিতে চলে গেল। আর ফিরে এল না।
শেয়াল হেসে বলল,
— “মামা, একটু ধৈর্য ধরুন। আপনার খাবার যখন প্রস্তুত হবে, তখন নিজেই ভেসে উঠবে!”
বাঘ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কচ্ছপকে আর দেখতে পেল না। তখন সে বুঝল, শেয়ালের কথায় বিশ্বাস করে সে নিজেই ঠকে গেছে।
বাঘ রাগে গর্জন করতে করতে বন ছেড়ে চলে গেল।
শেয়াল আনন্দে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বলল,
— “আজ আমার বুদ্ধির জোরেই বন্ধুর প্রাণ বেঁচে গেল। এবার নিশ্চিন্তে একটু বিশ্রাম নিই। পরে আবার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে এই মজার ঘটনার গল্প করব।”
শিক্ষা
বুদ্ধি ও উপস্থিত বুদ্ধি অনেক সময় শক্তির চেয়েও বেশি কার্যকর। সত্যিকারের বন্ধু বিপদের সময় নিজের বুদ্ধি দিয়ে বন্ধুকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।


0 মন্তব্যসমূহ