স্বার্থপর ঘোড়া ও তার পরিণতি একটি শিক্ষামূলক নীতিকথা লেখক: সুব্রত মজুমদার


স্বার্থপর ঘোড়া ও তার পরিণতি

একটি শিক্ষামূলক নীতিকথা

লেখক: সুব্রত মজুমদার




একটি শান্ত গ্রামের প্রান্তে বাস করতেন এক পরিশ্রমী কৃষক। তাঁর ছিল দুটি প্রিয় পোষা প্রাণী—একটি বলিষ্ঠ ঘোড়া এবং একটি পরিশ্রমী গাধা। প্রতিদিন বাজারে যাওয়ার সময় কৃষক গাধার পিঠে শস্য, সবজি ও নানা জিনিসপত্রের ভারী বোঝা চাপাতেন। অন্যদিকে ঘোড়াকে তিনি খুব সামান্য কাজেই ব্যবহার করতেন।

একদিন ভোরে কৃষক বাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন। সেদিন গাধার পিঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি বোঝা ছিল। প্রচণ্ড রোদ আর ভারী বোঝার চাপে গাধাটি হাঁপিয়ে উঠল। কিছুদূর এগিয়ে সে কাতর কণ্ঠে ঘোড়াকে বলল,

“বন্ধু, আমি আর পারছি না। তোমার পিঠে তো কোনো বোঝা নেই। আমার বোঝা থেকে যদি একটু নিয়ে নাও, তাহলে আমি পথটা পার হতে পারব।”

ঘোড়া অহংকারভরে উত্তর দিল,

“আমি কেন তোমার বোঝা বইব? প্রত্যেকের কাজ তাকে নিজেকেই করতে হয়। তুমি তোমার বোঝা নিজেই সামলাও।”

বন্ধুর কাছ থেকে এমন উত্তর পেয়ে গাধাটি আর কিছু বলল না। সে কষ্ট সহ্য করে ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।

কিন্তু বেশিক্ষণ সে সেই ভার বহন করতে পারল না। অতিরিক্ত বোঝার চাপে হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কৃষক অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর উঠাতে পারলেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাধাটি প্রাণ হারাল।

কৃষক গভীর দুঃখ পেলেও বাজারে পৌঁছানো জরুরি ছিল। তাই তিনি গাধার সমস্ত বোঝা ঘোড়ার পিঠে তুলে দিলেন। এরপর মৃত গাধার চামড়াটিও সঙ্গে নেওয়ার জন্য ঘোড়ার পিঠেই চাপিয়ে দিলেন।

এবার ঘোড়ার অবস্থা হলো শোচনীয়। এত ভার সে জীবনে কখনো বহন করেনি। প্রতিটি পদক্ষেপে তার শরীর কেঁপে উঠছিল। কষ্টে চোখে জল এসে গেল। তখন সে মনে মনে বলল,

“হায়! আমি কী ভয়ানক ভুল করেছি। যদি শুরুতেই বন্ধুর বোঝা থেকে সামান্য অংশ নিজের কাঁধে তুলে নিতাম, তাহলে সে হয়তো বেঁচে যেত। আর আজ আমাকে তার পুরো বোঝার সঙ্গে তার চামড়াও বহন করতে হতো না।”

সেদিন ঘোড়া বুঝতে পারল, নিজের স্বার্থের কথা ভেবে অন্যকে সাহায্য না করলে একদিন সেই স্বার্থপরতার ফল নিজেকেই ভোগ করতে হয়।

শিক্ষা

সময়মতো করা একটি ছোট সাহায্য অনেক বড় বিপদ এড়াতে পারে। স্বার্থপরতা কখনো স্থায়ী লাভ এনে দেয় না; বরং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনেই দুঃখ ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সত্যিকারের মহান মানুষ সেই, যে বিপদের সময় অন্যের পাশে দাঁড়াতে জানে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ