সন্ত-মহাপুরুষদের জীবনকথা



শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কৃপা

গুরুর আদেশে সাধু ও তাঁর শিষ্যদের উদ্ধার

উৎস: আমার জীবনে শ্রীশ্রী রামঠাকুর
লেখিকা: শ্রীমতী ঊষা রাণী গঙ্গোপাধ্যায়
পুনর্লিখন: সুব্রত মজুমদার

সেই সময় শ্রীশ্রী ঠাকুর আমাদের বাড়িতে দুই-তিন দিন অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো ভোরবেলায় প্রভাত কাকাবাবু এসে ঠাকুরের সান্নিধ্যে বসতেন এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সেবা ও সঙ্গ লাভ করতেন।

একদিন হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল, ঠাকুরের গায়ের চাদরের নিচে একটি জপমালা রয়েছে। মনে হলো, ঠাকুর যেন নীরবে মালা জপ করছেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়ের ছিল, কারণ এর আগে কখনও তিনি ঠাকুরকে মালা হাতে জপ করতে দেখেননি।

তিনি বাড়ির কর্তা, অর্থাৎ বাবাকে বললেন,

“দাদা, ঠাকুরকে তো কোনোদিন মালা জপ করতে দেখিনি। আজ হাতে মালা কেন?”

বাবা তখন মাকে বললেন,

“তুমি ঠাকুরকে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করো।”

মা শ্রদ্ধাভরে ঠাকুরকে প্রণাম করে বললেন,

“ঠাকুর মহাশয়, আজ আপনার হাতে মালা দেখছি। আগে তো কখনও দেখিনি। এর কারণ কী?”

ঠাকুর শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন,

“মা, আমি গুরুর সঙ্গে আলমোড়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, এক সাধুপুরুষ এবং তাঁর আশ্রিত শিষ্যরা আধ্যাত্মিক পতনের মধ্যে পড়েছেন। সেই সাধুপুরুষের আন্তরিক অনুরোধ আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। তাঁদের উদ্ধার করে ফিরে এসেছি। এখন তাঁদের যে সাধন-সংক্রান্ত ক্রিয়াকর্ম অসম্পূর্ণ ছিল, সেগুলোই আমি সম্পন্ন করছি। তাই হাতে এই জপমালা।”

ঠাকুরের এই অলৌকিক বাণী শুনে প্রভাত কাকাবাবু, বাবা ও মা গভীর বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁরা উপলব্ধি করলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন দায়িত্ব গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীশ্রী রামঠাকুর ছিলেন স্বয়ং সত্যনারায়ণের করুণাময় প্রকাশ। তাই তিনি শুধু নিজের মুক্তির পথই দেখাননি, অসংখ্য বিপথগামী ও পতিত জীবকেও আধ্যাত্মিক মুক্তির পথে পরিচালিত করেছেন। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় অনেকেই তাঁর প্রকৃত মহিমা উপলব্ধি করতে পারেননি।


ভাবার্থ

সত্যিকারের সদগুরু কেবল উপদেশ দেন না; তিনি প্রয়োজনে শিষ্যের আধ্যাত্মিক ভারও নিজের ওপর গ্রহণ করেন। তাঁর করুণা ও কৃপা মানুষের জীবনের অন্ধকার দূর করে মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে।

জয়রাম। জয় গোবিন্দ। 🙏🌸

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ